“শেষ হল ইরানের দেওয়া ৬০ দিনের সময়সীমা”

পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ইউরোপকে ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল ইরান। রোববার ইরানের বেঁধে দেয়া এ সময়সীমা শেষ হয়েছে।

এদিন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা আরও কয়েকগুণ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

রোববার তেহরানে ইরান সরকারের মুখপাত্র আলী রাবিঈ ও দেশটির উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে করা চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৩.৬৭ শতাংশের কথা বলা হলেও আজ থেকে আমরা যতটুকু প্রয়োজন মনে করব ততটুকু বাড়াবো। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ালেও ইরান এখনও আলোচনায় আগ্রহী বলে জানান তারা।

দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, নির্ধারিত পরিমাণের চাইতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ানোর অর্থ এ নয় যে ইরান পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেছে।
ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে ২০১৮ সালের ৮ মে বেরিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর এটির বাকি পাঁচ দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরমাণু সমঝোতা মেনে চলার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এ সমঝোতায় ইরানকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়।

কিন্তু ইরানের দাবি, এক বছরেও সে আশ্বাস বাস্তবায়ন করেনি ইউরোপিয়ান দেশগুলো।

গত ৮ মে তেহরান ইউরোপকে দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ঘোষণা করে, এ সময়ের মধ্যে তারা তাদের আশ্বাস বাস্তবায়ন না করলে ইরান পরমাণু সমঝোতার কিছু ধারা বাস্তবায়ন স্থগিত রাখবে।
গত সপ্তাহে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সই করা পরমাণু সমঝাতা অনুযায়ী ইউরেনিয়াম মজুদের সীমা অতিক্রম করেছে ইরান।
গত সোমবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে বিশ্ব শক্তির সঙ্গে পরমাণু চুক্তিতে ইরান নিজেদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধির মাত্রা হ্রাসে মজুদের পরিমাণ যে সীমার মধ্যে রাখতে রাজি হয়েছিল তা অতিক্রম করেছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ঘোষণা দিয়েছেন, রোববারের পর থেকে ইউরোপিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে স্বাক্ষরিত চুক্তি আর মানবে না ইরান।
প্রসঙ্গত পরমাণু কর্মসূচি হ্রাস করার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে- এই শর্তে ২০১৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫ সদস্য ও জার্মানির সঙ্গে ইরান ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ (জেসিপিওএ) নামের চুক্তিতে সই করে ইরান।

শুরু থেকেই চুক্তির প্রতিটি শর্তই মেনে আসছে তেহরান। এর পরও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর অভিযোগ এনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৮ সালের মে মাসে ওই সমঝোতা থেকে বেআইনি ও একতরফাভাবে আমেরিকাকে বের করে নেন। সেই সঙ্গে ২০১৫ সালে তুলে নেয়া সব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *