এবার ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ অনুষ্ঠানে দুঃসাহসী মোদি

কখনও জঙ্গল পেরিয়ে লোকালয়ে ফিরছেন। কখনও পাহাড়ের ওপর থেকে নেমে আসছেন তড়তড়িয়ে। কখনও বা একটা ডিঙি বানিয়ে সমুদ্রের মধ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। ডিসকভারি চ্যানেলে তার ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ অনুষ্ঠানে এমনটাই করে আসছেন বেয়ার গ্রিলস।

এবার উত্তরাখন্ডের জিম করবেট ন্যাশনাল পার্কে দেখা যাবে বেয়ার গ্রিলসকে। তবে একা সঙ্গীও যে সে নয়, স্বয়ং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি। দু’জনে মিলে এক্সপ্লোর করবেন ভারতের করবেট পার্কের অজানা রহস্য।

সম্প্রতি নিজের ভেরিফাইড টুইটার হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন বেয়ার গ্রিলস। সেখানে দেখা যাচ্ছে মোদির সঙ্গে করবেটের জঙ্গলে তিনি।

সম্পূর্ণ নতুন অবতারে। কখনও একটা বর্শা হাতে নিয়ে ঢুকে পড়ছেন জঙ্গলের ভেতর। কখনও বা পাহাড়ি নদীতে নৌকা ভাসাচ্ছেন। আর এই সব ক্ষেত্রেই তার সঙ্গে রয়েছেন গ্রিলস। মোদি নিজের টুইটারেও প্রকাশ করেছেন এ ভিডিও। ১২ আগস্ট রাত ৯টায় ডিসকভারি চ্যানেলে দেখা যাবে এ অনুষ্ঠান।

বেয়ার গ্রিলস নিজের টুইটারে লিখেছেন, ‘১৮০টি দেশের লোক প্রধানমন্ত্রী মোদির এক অন্য রূপ দেখতে পাবেন।

তিনি জঙ্গলের মধ্যে অভিযানে যাবেন সাধারণ মানুষের মধ্যে বন্য জন্তুদের সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষা করার বার্তা পৌঁছে দিতে।’ মোদি নিজের টুইটারে লিখেছেন, ‘বছরের পর বছর ধরে আমি প্রকৃতি, জঙ্গল, পাহাড়ের মধ্যে থেকেছি। এই সব বছরগুলো আমার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তাই যখন রাজনীতির বাইরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য আমাকে এরকম একটা অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দেয়া হয়, তখন আমি না বলিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে এই অনুষ্ঠান একটা বিরাট সুযোগ, যার মাধ্যমে আমি ভারতের প্রকৃতিক বৈচিত্র্যকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরতে পারব। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের একাত্মতার বার্তা দেয়া হবে। জঙ্গলে আরেকবার সময় কাটাতে দারুণ লেগেছে, তাও আবার বেয়ার গ্রিলসের মতো একজনের সঙ্গে। সত্যি ওর এনার্জির তারিফ করতে হয়।’

এই অনুষ্ঠানের ট্রেলরে দেখা যাচ্ছে ৬৮ বছর বয়সী মোদিকে বেয়ার গ্রিলস বলছেন, ‘আপনি ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তাই আপনাকে রক্ষা করা আমার কর্তব্য।’ নিয়মিত যোগাসন করেন মোদি।

তবে এবারই প্রথম নয়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও এসেছিলেন তার অনুষ্ঠানে। ওবামাকে নিয়ে আলাস্কার প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়েছিলেন গ্রিলস। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *